সুব্রত শুভ্র,ঝিনাইগাতী থেকে ফিরেঃ গল্প বললে নয় এক এটি একটি অসহায় ব্রিজের আর্তনাদ বলা যায়। সংযোগ সড়ক না হওয়ায় কাজে আসছে না শেরপুরের ঝিনাইগাতীর এই ব্রিজটি। প্রায় ১৬ বছর যাবত এভাবেই পড়ে আছে ব্রিজটি। এতে ব্রিজের দুপাশের ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ। সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনটি তৈরি করতে গিয়ে কথা হয় দুর্ভোগের শিকার লোকজনের সাথে। কথা বলে বের হয়ে আসে ব্রিজটির আর্তনাদের কাহিনী।গ্রামবাসীরা জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাটিয়াপাড়া সিএনবি সড়ক থেকে সারিকালিনগর ও গজারমারি হয়ে বাগেরভিটা বাজারের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। ওই পথে মাটিয়াপাড়া, সারিকালিনগর, বালুরচর, কালিনগর, নয়াপাড়া, দাড়িয়ারপাড়, কান্দুলী, কোচনিপাড়া, বাগেরভিটা, কোনাগাঁও, আহম্মদনগর, কালিনগর, জরাকুড়া, পাইকুড়া ও ধানশাইলসহ ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এ ছাড়াও রয়েছে ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৩/৪টি বাজার। স্থানীয়রা সড়কটি দেশ স্বাধীনের পর থেকেই পাকাকরণের দাবি করছেন। যে কোনো নির্বাচনে প্রতিবারই বিভিন্ন ইস্যুতে জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি পাকা করণের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এদিকে সড়কের কাজ না হলেও ২০০৪ সালে গজারমারি এলাকায় এলজিইডির প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয় একটি ব্রিজ। কিন্তু দুপাশে রাস্তা না থাকায় ব্রিজটি কোন কাজেই আসছে না। তবে শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে ভাঙ্গা পুরনো সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারলেও বর্ষায় সীমা থাকে না দুর্ভোগের। এখন চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। এ ছাড়া এলাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য ও গবাদী পশু পারাপারে সীমাহীন বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় কৃষকদের। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সড়কটি তলিয়ে যায়। শুধু ভেসে থাকে ওই ব্রিজটি। উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, ব্রিজের সংযোগ সড়কের উন্নয়নের জন্য প্রাক্কলনসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই তা অনুমোদন হতে পারে। অনুমোদন পেলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজটি হাতে নেওয়া হবে।