আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অন্যায় দেখে চুপ করে থাকেননি। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। সেজন্য সাময়িক সমস্যার মুখে পড়তে হলো তাকে। তার পরেও তিনি দমে যাননি। চারপাশের ক্রমাগত চাপ তাকে দমিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু তিনি এত সহজে ভেঙে পড়ার মানুষ নন। মন্ত্রীর ছেলেকে তিনি বুঝিয়েছিলেন, আইন নিজের পথে চলবে। মন্ত্রীর ছেলে বলে আইন পথ পরিবর্তন করবে না। কিন্তু ক্ষমতাশালী মন্ত্রীর ছেলের সত্য কথা হজম হয়নি। ক্ষমতার দাপট দেখাতে সে কারণে একজন নারী কনস্টেবলকে হেনস্থা করতে নেমেছেন তিনি। একজন সাধারণ পুলিশ কনস্টেবলকে নিয়ে এখন সারা ভারত গর্ব করছে। তাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এই দুর্নীতিপ্রবণ সমাজে দু-চারজন সুনীতা যাদব থাকলে হয়তো কাজে দিত! সুনীতা যাদব গুজরাটের ভারাচা রোডের এমএলএ তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী কুমার কানানির ছেলে প্রকাশকে মোক্ষম জবাব দিয়েছিলেন। প্রকাশ কানানি কারফিউ জারি অবস্থায় দুই বন্ধুর সঙ্গে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন।
পুলিশের চেকপোস্টে তাদের আটকানো হয়। এরপর মন্ত্রীর ছেলে বলে পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার দম্ভ দেখাতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু সেসব ফাঁকা আওয়াজে কনস্টেবল সুনীতা যাদব টলেননি। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, মন্ত্রীর ছেলে বলে ছাড় নেই। আইন সবার জন্য সমান। কারফিউ ভাঙার জন্য শাস্তি পেতে হবে। বাবার গাড়িতে চড়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রকাশ কানানি কনস্টেবল সুনীতাকে ধমকে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তোমাকে ৩৬৫ দিন এই জায়গায় দাঁড় করিয়ে রাখব, দেখে নিও। সুনীতা তাতেও দমে যাননি। পাল্টা বলেছিলেন, আমি আইনের রক্ষক। তোমাদের দাস নই। সাধারণ কনস্টেবলের এমন সাহস মন্ত্রী ও তার ছেলে মেনে নিতে পারেননি। ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন তারা। লকডাউনের মাঝেই সুনীতার কাছে এসে পৌঁছেছে বদলির চিঠি। অন্য জায়গায় বদলি হওয়ার জন্য তৈরি সুনীতা। তবে আপোশ করতে রাজি নন তিনি। সুরাটের পুলিশ কমিশনার আরবি ব্রম্ভাট পুরো ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেসব এখন অতীত। মন্ত্রীর ছেলেকে আইন শেখানোর জেরে সুনীতাকে ফল ভোগ করতে হবে।
প্রকাশ কানানি ও তার দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছিলেন সুনীতা। এরপর তারা জামিনে ছাড়া পান। জানা গেছে, সুনীতাকে আপাতত ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।