ফটিকছড়ি প্রতিনিধিঃ   উত্তর ফটিকছড়ির ভুজপুর থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী দাঁতমারা ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার আবুল কাশের পুত্র মাদক সম্রাট রাসেল মাহমুদ পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে আড়ালে থেকে তার সিন্ডিকেট এর নেতৃত্বে চালাচ্ছে দাঁতমারা সহ তার আশেপাশে বিশাল মাদকের হাট। রামু থানা ও দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও তার এলাকাটি দুর্গম এলাকা হওয়ার কারনে পুলিশ আসার খবর সে আগেভাগেই পেয়ে যায় বলে অভিযান গুলো ব্যর্থ হয় ধারণা করা হচ্ছে। তার নামে ভুজপুর থানায় মাদক ও চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে ৷ এব্যাপারে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার বলেন,রাসেল এলাকার চিহ্নিত একজন মাদক ব্যাবসায়ী। জানাগেছে রাসেল মাহমুদ দাঁতমারাকে মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যাবহার করে টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে হেয়াকো বারোয়ারহাট এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটিয়েছে। রামু থানা সুত্রে জানাগেছে গত ২ জুন রাসেল মাহমুদ এর সিন্ডিকেট টেকনাফ থেকে মোটর সাইকেল যোগে সড়কপথে ইয়াবার বড় একটি চালান নিয়ে আসার সময় রামু থানা পুলিশ জাহাঙ্গীর নামক ইসলামপুর এলাকার একজনকে রামু থানার হাইওয়ে রোডে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। রামু থানা পুলিশ জানিয়েছে গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর তার স্বীকারোক্তিতে নিজেকে ইসলামপুরের মাদক সম্রাট রাসেল মাহমুদের হয়ে ইয়াবাগুলো ইসলামপুর এলাকায় নিয়ে যেতে টাকার বিনিময়ে বহন করেছে বলে জানায়। এসময় জাহাঙ্গীর এই ইয়াবার চালানের সাথে রাসেল মাহমুদের আরেক সহযোগী ইসলামপুরের বাসিন্দা সবুজের জড়িত থাকার কথা জানায়। সবুজকে ১৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই সপ্তাহ আগে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার গ্রেফতার করতে পারলেও রাসেল আত্মগোপনে থেকে ভিন্ন কৌশলে ইয়াবা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে হোসেনেরখীল ও ইসলামপুর এলাকায়। আর তাকে সহযোগিতা করছে হোসেনেরখীল এলাকার বেলাল ড্রাইভারের ছেলে ইউসুফ। চট্টগ্রামের নারীপাচার মামলার আসামী ইউসুফ কুমিল্লায় রাসেলের ইয়াবা সাপ্লাই এর কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার জানিয়েছেন রাশেল মাহমুদের পাশাপাশি দাঁতমারা হোসেনেরখীলের ইয়াবা ব্যাবসায়ী ইউসুফকেও আমরা খুজছি এবং জানতে পেরেছি সে কুমিল্লায় আত্মগোপন করে আছে। জানা গেছে, হেয়াকো, দাঁতমারা,বারৈয়ারহাট স্টেশন মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ রুট। মাদকসম্রাট রাসেল টেকনাফ থেকে বড় বড় ইয়াবার চালান এনে দাঁতমারার হোসেনেরখীলস্থ ইউসুফের বাড়িতে রেখে এখান থেকে অর্ডার অনুযায়ী ইয়াবা প্যাকেটজাত করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন মাদক বেচাকেনার স্পটে সাপ্লাই দিয়ে থাকে। দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার বলেন,রাসেল ও ইউসুফের বাড়ি দুর্গম এলাকায় তাই এই এলাকাকে ইয়াবা কারবারীরা নিরাপদ হিসেবে বেছে নিয়েছে। জানাগেছে, ইয়াবা সম্রাট রাসেল মাহমুদ দাঁতমারা হোসেনেরখীল এলাকার স্থানীয় এক মাদকসম্রাজ্ঞীর ছেলের শ্বশুর বাড়ির এলাকা টেকনাফের স্থানীয় এক ইয়াবা চোরাচালানকারীর মাধ্যমে বড় বড় চালান নিরাপদ ট্রানজিট পয়েণ্ট দাঁতমারায় নিয়ে আসে এবং তার সিন্ডিকেটের সদস্য ইউসুফ কুমিল্লা বিশ্বরোডে বসবাসকারী তার আপন বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ইয়াবার চালান নিরাপদে ঢাকা,বিবাড়িয়া,সিলেট,চাঁদপুর,নরসিংদী সহ বিভিন্ন মাদকস্পটে পাঠিয়ে থাকে। অন্য একটি সুত্র জানায় রাসেল মাহমুদ মুলত হোসেনেরখীল এলাকার এক মহিলা মাদক ব্যাবসায়ীর সাথে সিন্ডিকেট করে মাদকের ব্যাবসা করে থাকে। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক বলেন, মাদক সেবন এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের তথ্য পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে এলাকাটি দুর্গম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলাদলির কারনে সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময়ই অভিযানে সফলতা আনা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, ফটিকছড়ি, ভুজপুর, দাঁতমারা,হেয়াকো,ইসলামপুর সহ আশে পাশের বিভিন্ন গ্রামে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আমাদের পাশাপাশি ভুজপুর থানা ও দাঁতমারা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশও তৎপর রয়েছে। এদিকে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কমিটি ফাড়ির ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার বলেন আমরা ইয়াবাসম্রাট রাশেল মাহমুদ ও ইউসুফকে গ্রেফতারের জন্য সন্দেহজনক এলাকা হিসেবে অন্য থানার সহযোগিতা নিচ্ছি,তাকে এবং তার সহযোগীদেরকে যেকোন মুহুর্তে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো বলে আশা রাখছি।