ফটিকছড়ি প্রতিনিধিঃ দৈনিক তথ্যধারায় নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে হেঁয়াকো,বাগানবাজার,নারায়নহাট,দাঁতমারা হোসেনেরখীল,ইসলামপুর,সেল্ফিরোড,সিকদারখীলের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের মে থেকে জোড়ালোভাবে মাদক নির্মূলের অভিযানে নেমেছে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার। মাদকের হাট হিসেবে পরিচিত হোসেনেরখীল ও ইসলামপুরকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। জুনের থেকে দাঁতমারায় নতুন করে চলমান মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সোহরাওয়ার্দী সরোয়ারের অভিযানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধনে থাকা ভালো মানুষের মুখোশপড়া ইয়াবা কারবারিরা ধরা পড়ছেন। জানাগেছে দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউপি এলাকায় মাদকব্যবসায়ীদেরকে ইন্ধনদানকারী গুটিকয়েক জনপ্রতিনিধি ও ইন্ধনকারী রাজনৈতিক নেতাদের মুখোশ খুব শীঘ্রই উন্মোচিত হবে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানাগেছে। সোহরাওয়ার্দী সরোয়ারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের কারনে দাঁতমারার অবৈধ ইয়াবার রাজ্যে রীতিমত ভূমিকম্প চলছে। দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার জানিয়েছেন হেঁয়াকো,দাঁতমারা,হোসেনেরখীল,ইসলামপুর ও বাগানবাজার এলাকাকে শতভাগ মাদকমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছি। এলাকাবাসী সুত্রে জানাগেছে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে উত্তর ফটিকছড়ির ভুজপুর থানার অন্তর্গত দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের হোসেনেরখীল ও ইসলামপুর এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবা নিয়ে আসে, তাই এই এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে। অভিযান গুলোতে মাদক ইয়াবা উদ্ধারের পর ঐ ইয়াবার প্রকৃতি মালিককে খোজে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এব্যাপারে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার বলেন,অনেক হাত ঘুরে খুচরা ব্যবসায়ীর হাতে ইয়াবা পৌছায়। পুলিশও এখন খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ী ধরে অনুসন্ধান করে হাত বদলকারী মাদকের প্রকৃত মালিককে ধরার চেষ্টা চালিয়ে সফল হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে অনেকে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। পুলিশ পরিদর্শক সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গডফাদারদের নাম পাওয়া গেছে ঐসকল ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। হাটহাজারী সার্কেল এর এএসপি স্যার এই অঞ্চলে এসে মাদক বিরোধী সভা এই অঞ্চলকে মাদকমুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে গেছে,তাই আমি কোন প্রভাবশালীকে ভয় করিনা এখন পুলিশের কাজে কেউ আর বাধা হয়ে দাড়াতে পারছে না। সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার আরো বলেন,দাঁতমারায় মাদক বিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে দাঁতমারা ইউপি এলাকার অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে দৈনিক তথ্যধারার পক্ষ থেকে অনুসন্ধান করে জানাগেছে বড় সিন্ডিকেটভুক্ত হোসেনেরখীল এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফ ও ইসলামপুর এলাকার রাসেলআহমুদ এলাকা ছেড়ে আড়াল থেকে অন্য কৌশলে ইয়াবা সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছে। ইউসুফ ও রাসেল মাহমুদ খুব বিচক্ষণতার সাথে দীর্ঘদিন যাবত দাঁতমারায় ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এব্যাপারে পুলিশ পরিদর্শক সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার বলেন, অতীতে যেটা হয়নি এবার অভিযানে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সবকিছু ধ্বংস করে দেয়া হবে। কোন ইয়াবা ব্যবসায়ীর রক্ষা নেই। ইয়াবা ব্যবসায়ী সমাজের যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, ঐসব প্রভাব এখন আর কোন কাজে আসবে না। এদিকে ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীন রাজনীতিবিদ মুজিবুল হক মজুমদারকে এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এলাকাকে রক্ষা করতে, যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে ২ নং দাঁতমারাকে মাদকমুক্ত করা খুব জরুরী আমি দেখছি সেই লক্ষেই দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন ২০০১ সাল থেকে সেসময়কার বিএনপির ক্যাডার বিপ্লবের নেতৃত্বে দাঁতমারায় সন্ত্রাসের রামরাজত্ব শুরু হয়। বিভিন্ন মামলার কারনে বিপ্লব এলাকা ছাড়া হলেও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড রাসেল মাহমুদ আড়ালে থেকে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা ও সবধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা ও সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করছে। আমাদের পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী সরোয়ার সাহেব যেভাবে মাদকবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে এতে করে সব অপরাধী পযার্য়ক্রমে আইনের আওতায় আসবে।