তথ্যধারা ডেস্ক : দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ইস্যুতে বেশ কয়েকদিন আগে দক্ষিন এশিয়ার শীর্ষ মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাক্ষাতের বিষয়টি নিজের লেখায় তুলে ধরেছিলেন দেশের একজন শক্তিমান সাংবাদিক। অবশেষে এই দুইজনের যোগসূত্রতা সম্পর্কে বেরিয়ে এল নিগূঢ় তথ্য। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর শীর্ষ এজেন্টদের সম্পর্কে প্রকাশিত এক গোপন নথিতে উঠে এসেছে তারেক জিয়ার নাম। যেখানে আরো আগে থেকেই দাউদ ইব্রাহিমের সদস্যপদ বহাল থাকার তথ্য জানা গেছে।

ইতিপূর্বে বিতর্কিত এই গোয়েন্দা সংস্থাটির সঙ্গে তারেক জিয়াসহ বিএনপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার যোগাযোগ থাকার কথা জানা গেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালনকালে তারেক জিয়ার বাবা, সাবেক সেনা শাসক জিয়াউর রহমান এক সময় দেশটির সেনাগোয়েন্দা সংস্থার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কর্তব্যরত ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে।

আইএসআই- এর কার্যক্রম নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি জার্নাল প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে জানা যায়, আইএসআই একটি নীতিবিচ্যুত সেনাগোয়েন্দা সংস্থা। বিশ্বের বহু আলোচিত ঘটনা সৃষ্টিকারী গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় আইএসআই- এর নাম প্রথম দিকেই রয়েছে। বলেছে, তাদের কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য হলো ভারত। এছাড়া স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকেও বিভিন্ন সময় প্রভাবিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।  ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উস্কে দেওয়া। ভারতে অশান্তি সৃষ্টি করা এবং ভারতে অস্থিরতা তৈরী করার জন্য সারাবিশ্বে যত বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং ভারত বিরোধী শক্তি আছে তাদেরকে এক করাই আইএসআই- এর প্রধান কাজ। রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে সাম্প্রদায়িকতার মত স্পর্শকাতর ইস্যুকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টতেও মূলহোতা তারা। সম্প্রতি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। অত্যন্ত গোপনীয় এই রিপোর্টটি ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। আইএসআই- এর এই রিপোর্টটিতে আইএসআই এর সারাবিশ্বের নেটওয়ার্ক, এবং নেটওয়ার্কে কারা কারা এজেন্ট হিসাবে কাজ করে সেরকম একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। ‘র’ এর এই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, এই সমস্ত ব্যক্তিরা ভারত বিরোধী তৎপরতায় আইএসআইকে সমর্থন যোগায়, মদদ যোগায় এবং আইএসআই এর এজেন্ট হিসাবে তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহায়তা করে ও কাজ করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের কাণ্ডারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বিংশ শতাব্দীর নৃশংসতম এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক চক্রের যে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়িত হয় তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে নৈরাজ্যবাদী পাকিস্তানের এই সেনাগোয়েন্দা সংস্থাটির। শুধু তাই নয়, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ প্রধান- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ এ যাবত যতগুলো ব্যর্থ প্রচেষ্টা পরিচালিত হয় তার প্রত্যেকটির সঙ্গে আইএসআই-এর সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। এর মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তারেক জিয়ার সক্রিয় ভূমিকা সম্পর্কে সর্বমহল অবগত। যার প্রেক্ষিতে আইনের হাত থেকে বাঁচতেই বর্তমানে লন্ডনে পলাতক রয়েছে তারেক। পাশাপাশি বাংলেদেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ উস্কে দেয়া ও জঙ্গি তৎপরতা সক্রিয় করার ক্ষেত্রেও গোয়েন্দা সংস্থাটির ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যায়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রাককালে শেখ হাসিনাকে হত্যা পরিকল্পনায় হামলা চালানো ও জাতীয় পর্যায়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ছক আকেঁ আইএসআই। তবে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতামূলক  তৎপরতায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিস্ময়কর তথ্যটি হচ্ছে,  আইএসআই- এর শীর্ষ এজেন্টদের যে তালিকা ‘র’ এর হাতে এসেছে সেখানে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার নামও পাওয়া গেছে। আইএসআই- এর এই তালিকায় দাউদ ইব্রাহিমসহ একাধিক ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। তবে তারেক জিয়ার নাম এই তালিকায় থাকাটা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক এবং গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা। কারণ তারেক জিয়াই এই তালিকার মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি যিনি একটি দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ নেতা। তারেক জিয়ার সঙ্গে আইএসআই- এর সম্পৃক্ততা নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তারেক জিয়া ভারতের ‘র’- এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলো এমন তথ্য ভারতের গণমাধ্যমেই প্রকাশিত হয়েছে। সে সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূত্রে এ তথ্য প্রকাশ পায় যে, ‘র’ এর সঙ্গে বৈঠক করে এবং ভারতকে মুচলেকা দিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিলো। দ্য হিন্দু, টেলিগ্রাফসহ একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্য থেকে জানা যায়, তারেক জিয়া সে সময় ক্ষমতায় আসার জন্য ‘র’ এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ৩ দফা বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরই তারেক নিজের প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করেন। দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার অনুসন্ধানী রিপোর্ট অনুযায়ী এ সময় আইএসআই- এর সঙ্গে তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠতার খবর পাওয়া যায়। ২০০২ এবং ২০০৩ সালে দুবাইয়ে তারেক জিয়াসহ বিএনপির দুজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা আইএসআই- এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সময় ভারতে অস্থিরতা এবং সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশকে করিডোর হিসাবে ব্যবহার করার উদ্যোগ গ্রহণ করে আইএসআই। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে অস্ত্র ভারতে পৌঁছে দেওয়া এবং ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তার কাজে তারেক জিয়া আইএসআইকে সহায়তা করে এমন তথ্য প্রমাণ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বহু আগেই প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশে যে ১০ ট্রাক অস্ত্র পাওয়া যায় তা কোথা থেকে এসেছে সে সম্পর্কে ইন্ডিয়া টুডের অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়েছিলো যে, তারেক জিয়ার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে উলফাদের এই অস্ত্র সরবারহ করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে নামানো হয়েছিলো। এর পর থেকেই তারেক জিয়া আইএসআই- এর প্যারোলে রয়েছে। এখনো তিনি আইএসআই- এর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন বলে ‘র’ এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে যে, তারেক জিয়ার সঙ্গে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে। তারেক আইএসআই এর সঙ্গে মিলে ভারত সরকারকে দুর্বল করা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নষ্ট করার জন্যও অত্যন্ত সক্রিয় বলে এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অবশ্য তারেকের আইএসআই- এর শীর্ষ এজেন্টদের তালিকায় থাকার অভিযোগ নতুন নয়। তারেক জিয়ার পক্ষ থেকেও কখনো ধরণের প্রতিবেদন, রিপোর্ট কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করা হয়নি যা এই দাইবির পক্ষে ‘নিরবতাই সম্মতির লক্ষণ’ হিসেবে বিবেচিত।