ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : মাদকের ছোবলে আচ্ছন্ন ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়ন। ইয়াবা সম্রাট শাহীনের মা খ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী আনোয়ারা বেগম এই ইউনিয়নের ইসলামপুরের বাসিন্দা। একসময় অন্যের আলু ক্ষেতে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কৃষি কাজ করে সংসার চালাতো।এখন চট্টগ্রাম শহর ও হেঁয়াকো এলাকায় আলিশান তিনটি বাড়ির মালিক।একসময় আনোয়ারা বেগমের ছেলে শাহীন কাজের সন্ধানে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে টেকনাফের এক মাদক সম্রাটের মেয়েকে বিয়ে করে রাতারাতি মাদক ব্যবসায়ী হয়ে উটে। শহর ছেড়ে দাঁতমারায় ফিরে এসে হোসেনেরখীল এলাকায় গড়ে তুলে ইয়াবা বেচাকিনার হাট। এক পর্যায়ে শাহীন পুলিশী নির্যাতনে পাগল হয়ে গেলে তার ইয়াবা ব্যবসার হাল ধরেন তার মা আনোয়ারা বেগম। ফলে মহিলা মাদক ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাধে পাল্টে যায় ভাগ্য। বড় বড় ইয়াবার চালান এনে পুরো ফটিকছড়ি জুড়ে চলতে থাকে তাদের একক মাদক বাণিজ্য। ইদানীং দাঁতমারা ইউনিয়নের অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারলেও সুচতুর আনোয়ারা বেগম পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে তুলে একক মাদক ব্যবসা। জানাগেছে ইয়াবা সম্রাজী আনোয়ারা বেগমের সাথে সাক্ষাত পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করার পর সাক্ষাত মেলে। ভাবখানা যেন প্রটোকল নিয়ে চলাফেরা করার মতো। বর্তমানে আনোয়ারা বেগমকে দাঁতমারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতার ছেলে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে। ফলে সে এখনো অধরা রয়ে গেছে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে অনেক ইয়াবা কারবারি আড়ালে চলে গেলেও বন্ধ হয়নি আনোয়ারা বেগমের ইয়াবার ব্যবসা। মাদকবিরোধী অভিযানের মাঝে নতুন নতুন কৌশলে রুট বদল করে বীরবেশে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি টেকনাফ থেকে একটি ইয়াবার চালান হোসেনেরখীলে নিয়ে আসার পথে রামু হাইওয়ে পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ছে। এসময় আনোয়ারা বেগমের ঘনিষ্ট সহযোগী দাঁতমারার ইসলামপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ইয়াবা ও একটি মোটর সাইকেলসহ গ্রেফতার হয়। এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে ফটিকছড়ির ইয়াবা কারবারিদের আইনের জালে আটকানোর দাবি জানান সচেতন মহল। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, যারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত আছেন তাদের একবিন্দু ছাড় দেয়া হবে না। আইনের আওতায় পাকড়াও করা হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে পুলিশ ও র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার হচ্ছেন শীর্ষ অনেক মাদক ব্যবসায়ী। এদের সবাই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তেমনি দাঁতমারা ইউনিয়নের হোসেনেরখীল ও ইসলামপুরেসহ কয়েকটি গ্রামে ইয়াবা ব্যবসায়ী আনোয়ারা বেগমের আস্তানা রয়েছে। আনোয়ারা বেগম সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য বিভিন্ন সময় ইয়াবাসহ দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছে। এই সিন্ডিকেটের মুল হোতা আনোয়ারা বেগম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে শীর্ষ গডফাদার হিসেবে তালিকাভুক্ত। অনুসন্ধানী তদন্ত প্রতিবেদনটি তৈরী করতে গিয়ে জানাগেছে উত্তর ফটিকছড়িতে ইয়াবা ব্যবসা করে আনোয়ারা বেগম ও মানিক রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। তারা গাড়ি-বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অনুসন্ধানে জানাগেছে এ পর্যন্ত আনোয়ারা বেগম তিনটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছে। এমন কথা এখন পুরো ফটিকছড়ি জুড়ে। এদের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন অভিব্যক্তি তুলে ধরছেন এলাকার সচেতন সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর আলাপচারিতায় উঠে আসছে অল্প সময়ে এত টাকা মালিত বনে যাওয়ার উৎস কোথায়! আরো নানা কথা। তাদের সম্পদের বিষয়ে তদন্তে নামার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল। সাধারণ মানুষের দাবি, যারা মাদকের বিস্তার ছড়িয়ে দেশ ও যুব সমাজকে ধ্বংস করছে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। আনোয়ারা বেগম, মানিক ও ইউসুফ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েকবার তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরতে না পারায় সাধারণ মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এই নিয়ে সাধারণ মানুষ নানা প্রশ্ন তুলছে। দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ( আইসি) সোহরাওয়াদ্দী সরোয়ার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। মাদকের প্রসার ও বেচাকেনা ঠেকাতে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সারা দেশের মতো দাঁতমারায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে পুলিশ।