ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : ফটিকছড়িতে অপহরণের এক বছর পর পাহাড়ি অঞ্চলের ৫০ ফুট গভীর পরিত্যক্ত একটি কুপে লাশের সন্ধান মিলেছে এনজিও কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের (৪৩)।বাংলাদেশ-ভারতের ফটিকছড়ি রামগড়ে গহীন জঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হেলাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করেছে। বুধবার বিকেলে অপহরণের সাথে জড়িত বিল্লাল নামে একজনকে রামগড় থেকে গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তিতে তাকে নিয়ে সন্ধ্যায় সীমান্তের রামগড় গহীন জঙ্গলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিবিআই টিম। জানা যায়, তথাকথিত কোটি টাকা মূল্যের তক্ষক কম মূল্যে বিক্রির নাম করে গত বছরের ২২ নভেম্বর বাবুল সিকদার (৪২) নামে এক ঠিকাদার ও এনজিও সংস্থা সেতু বন্ধনের ম্যানেজার হেলাল উদ্দিনকে (৪৩) ফটিকছড়িতে এনে অপহরণ করে। পরে অপহরণকারীরা তাদের পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দাবির কয়েকদিনের মাথায় অপহরণকারীরা বাবুলকে মুক্তি দিলেও এনজিও কর্মকর্তাকে অপহরণের পর হত্যা করে। হত্যার পর লাশ ফেলা দেয়া হয়েছিলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ৫০ ফুট গভীর গর্তে। হত্যাকাণ্ডের এক বছরের মাথায় জড়িত একজনকে পিবিআই আটকের পর বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য। এ ঘটনায় ভুজপুর থানায় একটি মামলা হলেও গত এক বছর ধরে হেলালের কোনো খোঁজ মিলছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছদ্মবেশী পিবিআই সদস্যদের ফাঁদে ধরা দেয় বিল্লাল নামে স্থানীয় এক তরুণ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিল্লাল হেলালকে হত্যা ও লাশ গুমের তথ্য দেয়ার পর শুরু হয় লাশ উদ্ধারের তৎপরতা। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল বলেন, ‘ঘটনাস্থল স্থানটি খুবই দুর্গম এলাকা। পায়ে হেঁটে ওই এলাকায় পৌঁছেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বাগানবাজার ইউপি সদস্য আতিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, ‘এটি খুবই দুর্গম এলাকা। এখানে জনবসতি নেই। এখানে উদ্ধার কাজ চালানো খুবই কঠিন। মাঠি খনন কাজ চলছে।চট্টগ্রাম অঞ্চলের পিবিআই পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামী আমাদের কাছে স্বীকার করেছে যে সে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলো। তার স্বীকারুক্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়ে ১৭ ঘন্টা চেস্টার পর।’