তথ্যধারা প্রতিবেদক : আর্থ্রারাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থাকলেও আসন্ন রমজান মাসে রোজা রাখতে আগ্রহী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে সেক্ষেত্রে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াক সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্ত সাপেক্ষে গত ২৫ মার্চ মুক্তি পাওয়ার পর থেকে গুলশানে তার বাসা ‘ফিরোজা’য় কোয়ারেন্টাইনে আছেন। শুক্রবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ম্যাডাম এখন কোয়ারেন্টাইনেই আছেন, যেহেতু গোটা জাঁতি শাটডাউনে আছে, চলাচল এবং সব কিছুই বন্ধ। উনি ওঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শে চিকিৎসাধীন আছেন এবং এভাবে কোয়ারেন্টানে থেকেই তিনি রমজানের রোজা পালন করবেন। রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিমদের খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাসায় খালেদা জিয়ার সময় কাটছে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তজবীহ পাঠ, বই পড়ে। এছাড়াও দুই পুত্রবধূ, নাতনীদের সাথে টেলিফোনে মাঝে মধ্যে কথা বলেন তিনি। গত ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে ৬ মাস সাজা স্থগিত রেখে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। দুই বছর কারাবাসের শেষের একবছর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মুক্তি পেয়ে হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় ওঠেন অসুস্থ খালেদা জিয়া। বাসার দোতলায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি কোয়ারেন্টাইনে থাকেন। লন্ডন থেকে বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান তার চিকিৎসার সবকিছু তত্বাবধায়ন করছেন। ৭৫ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে রিউমাটয়েড আর্থ্রারাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও তার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডামের অসুস্থতা আগের মতোই আছে। এটা বিভিন্ন কারণে হচ্ছে। হাত-পায়ের ব্যথা আগের মতোই আছে। আজকে হয়ত একটু ভালো থাকে তো আবার কালকে প্রচন্ড ব্যাথা। ব্যাথা উপশমের জন্য থেরাপি দেয়া হচ্ছে। ওঁর ডায়াবেটিস বেশ অনিয়ন্ত্রিত। ফিরোজা’র নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসক দলের সদস্য এবং কয়েকজন নিকটাত্মীয় ছাড়া আর কাউকে বাসয় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।